মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য আলোচিত এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিতে উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যা কম বেতনের পেশাজীবীদের বিশেষত ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে থাকা বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বর্তমানে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা সাময়িকভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভিসাধারী কম্পিউটার-সম্পর্কিত কাজে যুক্ত এবং সর্বাধিক ভিসাধারী ভারতের নাগরিক, এরপর চীনের। প্রতি অর্থবছরে নতুন ভিসার সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ, যার মধ্যে ২০ হাজার উন্নত ডিগ্রিধারীদের জন্য বরাদ্দ। ২০২৪ সালে নবায়নসহ মোট চার লাখ আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে অ্যামাজন সর্বাধিক নিয়োগ দিয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনে উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত প্রার্থীরা সহজে ভিসা পাবেন, যা বড় টেক কোম্পানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে কম বেতনের এন্ট্রি-লেভেল পদের ক্ষেত্রে বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া মার্কিন ডিস্ট্রিক্টগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ স্পষ্ট। সমর্থকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে সেরা মেধা আকর্ষণ ও শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেয়। সমালোচকরা দুর্নীতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। রিপাবলিকান নেতা লরা লুমার ও স্টিভ ব্যানন প্রোগ্রামটিকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইলন মাস্ক ও ট্রাম্প একে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, বড় করপোরেশনগুলো প্রোগ্রামটির অপব্যবহার করছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাওয়া অনেক দক্ষ অভিবাসী অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, মন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। বিতর্ক আপাতত চলছেই।
আরটিভি/এসকে

