মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত শখ পূরণের জন্য হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক স্থাপনায় ভাঙাগড়ার কাজ শুরু করেছেন। নতুন একটি বলরুম তৈরি করতে তার নির্দেশে ইস্ট উইংয়ের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আমি গর্বিত যে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহু প্রতীক্ষিত এ প্রকল্পটি শুরু করতে পারলাম—করদাতাদের একটা পয়সা অপচয় ছাড়াই! এটি সম্পূর্ণভাবে অর্থায়ন করছে কিছু দেশপ্রেমিক, বড় আমেরিকান কোম্পানি এবং আমিও।
গতকাল হোয়াইট হাউসে কলেজ বেসবল খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ার সময় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, সরাসরি অন্য পাশে অনেক নির্মাণকাজ চলছে। মাঝেমধ্যে আপনারা এর শব্দ শুনতে পাবেন। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দেন। এক শতকের বেশি সময়ের মধ্যে হোয়াইট হাউসে এটাই সবচেয়ে বড় সংযোজন।
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক এক মার্কিন আইনপ্রণেতা তো এটিকে ‘স্রেফ ধ্বংসযজ্ঞ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান মার্ক তাকানো একটি বিল প্রস্তাব করেছেন, যাতে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকলে (শাটডাউন পরিস্থিতিতে) হোয়াইট হাউসে কোনো নির্মাণকাজে ফেডারেল তহবিল ব্যবহার না করা যায়। সোমবার ছিল সরকার শাটডাউনে থাকার ২০তম দিন।
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্সে লিখেছেন, এটি জনগণের বাড়ির এক ভয়াবহ বিকৃতি। আমি যদি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হই, প্রথম প্রতিশ্রুতিই হবে ওই বলরুম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ কোটি ডলার) ব্যয়ে এই বিশাল বলরুম তৈরির পরিকল্পনা গত জুলাইয়ে সামনে আসে। এটি শতাব্দীর মধ্যে হোয়াইট হাউসের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প হবে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বলরুমে একসঙ্গে ৬৫০ জন অতিথি বসতে পারবেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, নতুন কাঠামোটি বর্তমান ভবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না এবং ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কাজটি শেষ হবে।
আরটিভি/এআর

