গাজার ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা সংকট নিয়ে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অবরুদ্ধ উপত্যকায় ১৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।
ডব্লিউএইচও এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বৃহস্পতিবার( ৬ নভেম্বর) বলেছেন, এটি সময় ও মানবতার বিবেকের বিরুদ্ধে এক দৌড়। গাজার মানুষদের জরুরি চিকিৎসা না দিলে জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও অনেক দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ডব্লিউএইচও এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার গাজাবাসীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি শিশু। এই স্থানান্তরের ভঙ্গুর মানবিক করিডরের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগী, বিস্ফোরণে আহত শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ রোগীদের ইতালিসহ জর্ডান, মিশর, তুরস্কের মতো দেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে ডব্লিউএইচও এর একজন কর্মকর্তা বলেন, যাকে সরাই, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ অনুমতি না পেয়ে মারা যায়।
ডব্লিউএইচও এর সর্বশেষ মাঠ পর্যায়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৭টি আংশিকভাবে কার্যকর, যা ধারণক্ষমতার ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। গাজা সিটির আল শিফা হাসপাতালে ডাক্তাররা এখন টর্চলাইটের আলোয় অস্ত্রোপচার করছেন।
অ্যানেসথেসিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক এবং পরিষ্কার ব্যান্ডেজের চরম ঘাটতি চিকিৎসা কার্যক্রমকে প্রায় স্থবির করেছে। এক ফিলিস্তিনি সার্জন বলেন, এখন হাসপাতাল আর মর্গের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এক তৃতীয়াংশ গাজার শিশু মারাত্মকভাবে অপুষ্ট। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ৭১ হাজার জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আরটিভি/এআর

