শেখ হাসিনাকে কি হস্তান্তর করবে ভারত, যা জানা গেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:০৬ পিএম


হাসিনাকে কী হস্তান্তর করবে ভারত, যা জানা গেল!
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছে। আদালতে রায় ঘোষণা হলেও বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। 

বিজ্ঞাপন

এদিন রায়ে আদালত বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার শুরুর আগে ভারতের কাছে তাকে ফেরত চেয়ে বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দুই দেশের মাঝে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। 

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারত ফেরত দেবে কি না, সেই প্রশ্ন করছেন অনেকে। 

algagira

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার পর কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রত্যাশিত ছিল। তবে, ভারত বাংলাদেশের এই পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না।

তিনি বলেন, ভারত কোনও অবস্থাতেই তাকে প্রত্যর্পণ করবে না। গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না এবং অনেক সময়ই তা ভঙ্গুর মনে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাশিতই ছিল। দেশের ভেতরের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তার বেশ কঠিন বিচার হবে, এটা প্রত্যেকেই আশা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা একমত হয়েছেন। 

প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কী বলা হয়েছে? 

২০১৩ সালে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল ভারত এবং বাংলাদেশ। পরে ২০১৬ সালে চুক্তি সংশোধন করা হয়; যাতে দুই দেশের মধ্যে পলাতক বন্দি ও আসামিদের বিনিময় আরও সহজ এবং দ্রুত হয়। 

এই চুক্তিটি বেশ কিছু ভারতীয় পলাতক আসামি, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত আসামিদের বাংলাদেশে লুকিয়ে থাকা এবং (ভারতের) বাইরে কাজ করার প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে, বাংলাদেশ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) মত সংগঠনগুলোর থেকেও সমস্যায় পড়েছিল, এই গোষ্ঠীটির সদস্যদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের মতো রাজ্যে লুকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। 

বন্দি বিনিময় চুক্তির কারণে ২০১৫ সালে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াকে সফলভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নয়াদিল্লি। তারপর থেকে এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আরও একজন পলাতক আসামিকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছে। ভারতও এই চুক্তির মাধ্যমে অতীতে বাংলাদেশের পলাতক কয়েকজনকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল। 

সূত্র : আল জাজিরা, দ্য ডিপ্লোম্যাট 

আরটিভি/এএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission