দখলকৃত পশ্চিমতীরে রোমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরকারের একটি নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। দখল করা হলে এটি হবে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমি দখল। পুরোনো পাথরে জমে থাকা ইতিহাসের মাঝে এই নতুন উত্তেজনার গন্ধ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
পশ্চিমতীরে রোমান যুগের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের কথা এমন এক সময় সামনে এলো যখন এই অঞ্চলে লাগামহীন সহিংসতা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলিদের হামলা প্রায়শই হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই, এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায়।
ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, তারা পশ্চিমতীরের সেবাস্তিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিতে চায়। স্থানটি প্রায় ৪৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি রোমান যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
‘পিস নাও’ নামের একটি বসতি-বিরোধী সংগঠন মনে করছে, গত ১২ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি আদেশেই দখল করতে চাওয়া জমির তালিকা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, এই দখলের উদ্দেশ্য একটাই—পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে সেবাস্তিয়ার প্রত্নস্থলকে নিজেদের মতো সাজানো।
ধারণা করা হয়, সেবাস্তিয়ার ধ্বংসাবশেষের নিচেই ছিল প্রাচীন সামারিয়া রাজ্যের রাজধানী। খ্রিস্টান ও মুসলমান উভয়ই বিশ্বাস করেন যে জন দ্য ব্যাপটিস্টের সমাধিও এখানে আছে। এই বিষয়ে আপত্তি জানানোর জন্য ফিলিস্তিনিদের মাত্র ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল যে জায়গাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে তাদের। বর্তমানে সেখানে পুরোদমে খননকাজ চলছে। পিস নাও এবং আরেকটি অধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ৩ কোটি শেকেল বা ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের দিক থেকে এর আগে সবচেয়ে বড় যে জমি দখল করা হয়েছিল, তা ছিল পশ্চিম তীরের দক্ষিণে সুসিয়া গ্রামে প্রায় ৭০ একর। এই নতুন ৪৫০ একর দখলের চেষ্টা সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাবে।
আরটিভি/এআর




