হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো এলাকার আবাসিক কমপ্লেক্সের একাধিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৭৬ জন, যাদের মধ্যে ৪৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩০০ জন। এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় পুরো হংকং জুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া হংকং ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং একজন প্রকৌশল পরামর্শক।
হংকং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট আগুনটিকে লেভেল-ফাইভ অ্যালার্ম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, যা সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর। হংকংয়ে সর্বশেষ এমন শ্রেণির অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ১৭ বছর আগে।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র জানান, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের চরম অবহেলা-ই এই দুর্ঘটনার কারণ। তাদের অবহেলার কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি হয় বলে পুলিশ মনে করে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে বেশ কিছু উপাদান সাহায্য করেছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক টাওয়ারের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং (অস্থায়ী কাঠামো) আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে এবং পাশের ভবনগুলোতেও আগুন পৌঁছে যায়।
তদন্তে পুলিশ ভবনের বাইরে জাল ও সুরক্ষা সামগ্রী পেয়েছে, যেগুলো আগুন নিরোধক ছিল না। এছাড়া জানালাগুলোতে লাগানো পলিস্টাইরিন বোর্ড (স্টাইরোফোম) আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরের সকালে টাওয়ার ব্লকগুলোর কিছু অংশ থেকে এখনো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আটটি ভবনের মধ্যে চারটি টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও পুরো দিন লেগে যাবে। এরই মধ্যে শত শত বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আবাসন বরাদ্দ করা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর




