বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক সাহসী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সোমালিল্যান্ডকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৩ বছরের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে যাচ্ছে লোহিত সাগরের তীরের এই অঞ্চলটি। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম চুক্তি’র আলোকেই এই পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুই দেশ একে অপরের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস খোলার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার জানিয়েছেন, দুই সরকারের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে চলা দীর্ঘ আলোচনার ফলশ্রুতিতে এই যৌথ ঘোষণাপত্র সই হয়েছে। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহামেদ আবদুল্লাহি ভিডিও কলে নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, তার দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইসরায়েলের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সোমালিয়া সরকার। তারা একে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। মিশর, তুরস্ক ও জিবুতির মতো দেশগুলোও সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। মিশরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অংশকে আলাদা স্বীকৃতি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করবে। আফ্রিকান ইউনিয়নও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময়ের ব্রিটিশ শাসিত সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ায় পূর্ব আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। গত তিন দশকে সোমালিয়া যখন গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল, তখন সোমালিল্যান্ড নিজস্ব সংসদ, সোনা ও মুদ্রার মান এবং পতাকা নিয়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাইওয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও কোনো পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি।
ইসরায়েলের এই একক সিদ্ধান্তের পর এখন সবার নজর ওয়াশিংটনের দিকে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেক রিপাবলিকান সিনেটর দীর্ঘদিন ধরে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে কথা বলে আসছেন। ইসরায়েলের এই পথ ধরে ইউরোপ বা আমেরিকার অন্য কোনো মিত্র দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরটিভি/এআর



