ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আটকের পর বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মেজাজ এখন তুঙ্গে। লাতিন আমেরিকার তিন দেশ— মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে উৎখাতের হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্পের নজর এখন তেহরানের দিকে। তবে হোয়াইট হাউসের এই সামরিক হুঁশিয়ারিকে পাত্তাই দিচ্ছে না ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আমির হাতামি পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, বাইরের শক্তির কোনো হুমকি ইরান মেনে নেবে না এবং শত্রুর যেকোনো দুঃসাহসের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
জেনারেল হাতামি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক বক্তব্যকে তেহরান একটি সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রু যদি কোনো ভুল করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হবে। মূলত ইরানে চলমান অর্থনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরাসরি উস্কানির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে তেহরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ’ এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
গত জুনে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি অংশ নিয়েছিল। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর পতন এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও সাহসী করে তুলেছে। তবে জেনারেল হাতামির এই হুংকার প্রমাণ করে যে, তেহরান যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
আরটিভি/এআর




