ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সহকারীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালীন অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক তথ্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ফাঁসের ঘটনার তদন্তে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খবর এএফপির।
তসাখি ব্রাভারম্যান নামের এই কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত এবং তাকে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে সতর্কতামূলক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী এলি ফেল্ডস্টেইন অভিযোগ করেছিলেন যে, ব্রাভারম্যান যুদ্ধের গোপন তথ্য ফাঁসের তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই আটকের ঘটনা নেতানিয়াহু প্রশাসনের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ফাটল ও অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলের ভেতরে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই গাজায় আবারও রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোর পর্যন্ত রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় রাতভর বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে চালানো এই অভিযান গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে গাজায় ইসরায়েলের এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। একদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের কেলেঙ্কারি এবং অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অবিরাম হামলা—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে অঞ্চলটি। তসাখি ব্রাভারম্যানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তার আটক হওয়া নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর




