ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ, ইউরোপকে কটাক্ষ রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ। ছবি সংগৃহীত

আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার বিরোধ এখন প্রকাশ্য অর্থনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কসহ আটটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই কঠোর পদক্ষেপের পরপরই ময়দানে নেমেছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ইউরোপীয় নেতাদের বিদ্রূপ করে বলেছেন, তাদের উচিত হবে না ‘নিজেদের বাবাকে’ (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উসকানি দেওয়া। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

শনিবার(১৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে দিমিত্রিভ ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর সরাসরি সাজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন যা টেনে দিমিত্রিভ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তার মতে ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের সাথে একটি বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে যার গাণিতিক হিসাব অত্যন্ত চড়া। তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো প্রতিজন সেনার বিপরীতে ট্রাম্প প্রায় ১ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করছেন যা ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হবে।

আরও পড়ুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের দাবি গ্রিনল্যান্ডে এই দেশগুলোর ‘বিপজ্জনক সামরিক উপস্থিতি’ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ডেনমার্কের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি পুরোপুরি কিনে নেওয়া।

বিশ্লেষকরা রাশিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার ফাটল আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মার্কিন স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার সংকল্প করেছেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর।
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
আরও পড়ুন
ইউক্রেনে ত্রাণকেন্দ্রে রাশিয়ার হামলা, নিহত ২৬
জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি, জানাল হোয়াইট হাউস
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কিনল যুক্তরাষ্ট্র