৪৪ বছর কারাভোগের পর মুক্তি, আধুনিক বিশ্ব দেখে হতবাক কয়েদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:০১ পিএম


৪৪ বছর কারাভোগের পর মুক্তি, আধুনিক বিশ্ব দেখে হতবাক কয়েদি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪৪ বছর কারাগারে কাটানোর পর মুক্তি পেয়ে আজকের পৃথিবীকে একেবারেই অচেনা মনে হয়েছিল ওটিস জনসনের কাছে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে সমাজের মূল স্রোত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকা এই মানুষটির চোখে আধুনিক বিশ্ব যেন এক ভিন্ন বাস্তবতা যেখানে কানে তার লাগানো মানুষজন নিজে নিজে কথা বলছে, আর সবাই যেন গোপন কোনো এজেন্ট।

বিজ্ঞাপন

এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাজাভোগ শেষে ২০১৪ সালের আগস্টে কারামুক্ত হন জনসন। সাজা শুরুর সময় তার বয়স ছিল ২৫ বছর, মুক্তির সময় তিনি ছিলেন ৬৯ বছর বয়সী। যদিও তার মুক্তি আরও আগেই হওয়ার কথা ছিল, তবে কিশোর বয়সে করা একটি দোকানচুরির মামলার কারণে তাকে অতিরিক্ত আট মাস কারাভোগ করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া বন্দির সংখ্যা খুবই কম। বিচার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অন্তত ২০ বছর সাজা কাটিয়ে মুক্তি পান প্রায় ৩ হাজার ৯০০ বন্দি, যা ওই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত মোট অঙ্গরাজ্য বন্দির এক শতাংশেরও কম।

বিজ্ঞাপন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কারাগার সংস্কার নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শেষ মেয়াদে বন্দিদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এক বক্তব্যে ওবামা বলেন, ভুল করা মানুষের জন্য সঠিক পথে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত।

তবে মাদক ও অহিংস অপরাধে সাজা কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বয়স্ক বন্দিদের বিষয়টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বন্দির সংখ্যা বেড়েছে ২৫০ শতাংশ। ফলে এই বয়সী বন্দিদের দেখভাল ও পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মানসিক ও সামাজিক প্রয়োজন বর্তমান ব্যবস্থায় ঠিকভাবে বিবেচিত হচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গণপরিবহন কিংবা দৈনন্দিন ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও তারা সমস্যায় পড়ছেন।

আরও পড়ুন

কারামুক্তির সময় জনসনের হাতে তুলে দেওয়া হয় মাত্র ৪০ ডলার, দুটি বাস টিকিট ও কিছু কাগজপত্র। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় জীবন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নতুন সমাজে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগার সংস্কারের বর্তমান উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জনসনের মতো দীর্ঘদিন সাজাভোগ করা বন্দিদের সমাজে ফেরার পথ সহজ হতে পারে। তবে কয়েক দশক বন্দিজীবনের পর মুক্তি তাদের জন্য স্বস্তির চেয়ে নতুন এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে কি না সে প্রশ্ন এখনও রয়েই গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আরটিভি/এমএইচজে/একে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission