মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজার সুশৃঙ্খল করতে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী দৈনিক গালফ নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। মূলত অবৈধভাবে অবস্থানকারী এবং কর্মক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই এই বিশাল অভিযান চালানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসজুড়ে কুয়েতের প্রতিটি প্রশাসনিক অঞ্চলে একযোগে এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রধানত বৈধ আকামা বা আবাসন অনুমতি না থাকা, কাজের চুক্তি ভঙ্গ করে অন্য জায়গায় শ্রম দেওয়া এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পরপরই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের কুয়েত থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসন করা হয়।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আবাসন ও শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই ধরণের নিয়মিত অভিযানের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় যেমন অবৈধ শ্রমিকরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন আইন ভঙ্গকারী বিভিন্ন কোম্পানির কর্মীরাও। কুয়েত সরকার বারবার সতর্ক করে বলেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের আইনি কাঠামোকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে এই ধরণের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। গত কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি থেকে হাজার হাজার অবৈধ প্রবাসীকে ধারাবাহিকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুয়েতের এই কঠোর অবস্থান মূলত তাদের ‘কুয়েতীকরণ’ বা নিজস্ব জনবলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির একটি অংশ। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা দালালের মাধ্যমে গিয়ে কিংবা ফ্রি ভিসার নামে অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তারা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
কুয়েত প্রশাসন জানিয়েছে, যারা যথাযথ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশটিতে কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
আরটিভি/এআর





