ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর ‘হাড় না ভাঙা পর্যন্ত’ শারীরিক নির্যাতনকে কার্যত বৈধতা দিয়ে নতুন একটি দণ্ডবিধি অনুমোদন করেছে। তবে মারধরে যদি গুরুতর জখম বা হাড় ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে স্বামীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০ পৃষ্ঠার এই নতুন ফৌজদারি আইনে আফগান সমাজের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ কিছু চর্চাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষ করে নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার স্বাক্ষরিত এই দণ্ডবিধিতে ইসলামী ধর্মগ্রন্থভিত্তিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে অপরাধীর সামাজিক অবস্থান সে ‘স্বাধীন’ নাকি ‘দাস’ তার ওপর নির্ভর করে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ফলে আইনটি কার্যত আফগান সমাজে একটি নতুন শ্রেণিবিন্যাস বা বর্ণব্যবস্থা তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দণ্ডবিধিতে নারীদের কার্যত ‘দাসের’ সমমর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। স্বামী বা তথাকথিত ‘মালিক’রা স্ত্রী কিংবা অধীনস্তদের নিজের ইচ্ছেমতো শাস্তি দিতে পারবেন এমন বিধান এতে যুক্ত রয়েছে। লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে ‘তাজির’ পদ্ধতিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে, যেখানে স্ত্রী হলে স্বামীর হাতে প্রহারই শাস্তি হিসেবে গণ্য হবে।

আইনে নির্যাতিত নারীদের জন্য বিচারপ্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও শর্ত রাখা হয়েছে কঠোর। গুরুতর আঘাতের প্রমাণ, বিচারকের সামনে শরীরের ক্ষত প্রদর্শন, সম্পূর্ণ আবৃত থাকা এবং আদালতে স্বামী বা পুরুষ অভিভাবক (মাহরাম) সঙ্গে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাস্তবে এসব শর্তের কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন কাবুলে কর্মরত এক আইন উপদেষ্টা।

মানবাধিকার সংস্থা রাওয়াদারি জানিয়েছে, দণ্ডবিধির ৩৪ নম্বর ধারা নারীদের পিতামাতার বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া সেখানে গেলে নারী ও তাকে আশ্রয় দেওয়া পরিবারকেও কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সমর্থিত আগের সরকারের সময় নারীদের অধিকার নিয়ে যে অগ্রগতি হয়েছিল, নতুন এই দণ্ডবিধি তা থেকে স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ। নতুন আইনের আওতায় গুরুতর নির্যাতনের প্রমাণ মিললেও স্বামীর সর্বোচ্চ সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই দণ্ডবিধিতে নারীদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক বা যৌন সহিংসতার নিন্দা বা নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং ধর্মীয় আলেমদের হাতে শাস্তি কার্যকরের ক্ষমতা তুলে দিয়ে তাদের আইনি জবাবদিহি থেকে ব্যাপকভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কাজীদের ক্ষমতা শেষ, ভারতে মুসলিমদের বিয়ে নিয়ে নতুন নিয়ম!
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পুরোনো ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে পুরো প্রক্রিয়া।  মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।  আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। সেই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়।  তবে নতুন করে দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।  এবার ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে বিবাহ করা। ২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।     আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল।  ২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে।  মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতেও প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।  বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না। আরটিভি/এসআর
কাজীদের ক্ষমতা শেষ, ভারতে মুসলিমদের বিয়ে নিয়ে নতুন নিয়ম!
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে।
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
মার্কিন গ্রিড সংস্কারে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল জ্বালানি বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় তা পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
মার্কিন গ্রিড সংস্কারে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল জ্বালানি বিভাগ
প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রায় সব এজেন্ট ও চাকরিতে আবেদনকারীদের 'অতি সংবেদনশীল তথ্য' চুরি করার দাবি করেছে ‘শাইনি হান্টার্স’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শ্রেণির আবেদনকারীর জন্য লাগবে না ভিসা ফি
যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাতটি ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের কোনো প্রসেসিং ফি দিতে হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শ্রেণির আবেদনকারীর জন্য লাগবে না ভিসা ফি
আরও পড়ুন
আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালাল পাকিস্তান
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে নাম নিবন্ধন করেছেন তাসকিন
নাহিদ-তাসকিনকে ছাড়াই আফগানিস্তান টেস্টের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
৩০ বলে ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে অভিষেক শর্মার পাঁচ রেকর্ড