থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই প্রদেশের একটি বেসরকারি প্রাণী পার্কে ভয়াবহ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দ্বিমুখী সংক্রমণে অন্তত ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিয়াং মাই প্রদেশের প্রাণিসম্পদ দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মৃত বাঘগুলোর শরীরে অত্যন্ত সংক্রামক ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস এবং শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্তকারী এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই জোড়া সংক্রমণের আঘাতেই বাঘগুলো প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক সোমচুয়ান রতনমুংলানন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্য বাঘ অসুস্থ হলে তা শনাক্ত করা গৃহপালিত বিড়াল বা কুকুরের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাঘগুলো যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন প্রাথমিকভাবে বোঝার উপায় ছিল না। যখন আমরা বুঝতে পারলাম যে তারা গুরুতর অসুস্থ, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়ার আগেই সংক্রমণটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাঘগুলোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার হওয়া পার্কটির নাম ‘টাইগার কিংডম’, যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এএফপির পক্ষ থেকে পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, এই পার্কটি তাদের ওয়েবসাইটে পর্যটকদের জন্য বড় আকৃতির বাঘ স্পর্শ করা এবং তাদের সঙ্গে খুব কাছ থেকে ছবি তোলার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। অনেক প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও এই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
এদিকে বাঘগুলোর এমন করুণ মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা এশিয়া।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বাঘগুলো যেভাবে জীবন কাটিয়েছে, ঠিক সেভাবেই কষ্টের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে—অত্যন্ত দুঃখজনক জীবন, বন্দিদশা আর ভয়ের মধ্যে।
পেটা আরও বলে, যদি পর্যটকরা এই ধরণের বিনোদন কেন্দ্রগুলো বয়কট করতেন, তবে এগুলো অলাভজনক হয়ে পড়ত এবং বাঘদের এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হতো না। এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের অন্যান্য অ্যানিম্যাল পার্কগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
আরটিভি/এআর





