ড্রোন হামলার কারণে বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি উৎপাদক কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার বাজার, যেমন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান, সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারে।
কাতার বিশ্ববাজারে বড় সরবরাহকারী হওয়ায় উৎপাদন বন্ধের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় এলএনজির দামও দ্রুত বেড়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার একটি লক্ষ্য ছিল মেসাইয়িদ শিল্পনগরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক, আর অন্যটি ছিল রাস লাফানে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপন। হামলায় কেউ হতাহত হয়নি, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে।
রাস লাফান কমপ্লেক্সে রপ্তানির জন্য এলএনজি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে স্থগিত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি জাহাজ প্রণালিতে বা আশপাশে নোঙর করেছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেল ও এলএনজি পরিবহন ৮৬ শতাংশ কমেছে এবং প্রায় ৭০০ জাহাজ প্রণালির দুই পাশে আটকা পড়েছে।
কাতারের এলএনজি রপ্তানি বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ দখল করে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম্যাকসিম সোনিন জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বাড়বে, তবে ২০২২ সালের ইউরোপীয় গ্যাস সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে না।
বর্তমানে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক। কাতারএনার্জির বিক্রির ৮২ শতাংশ এশিয়ায় যায়, তাই সরবরাহে স্বল্পতা এশিয়া এবং ইউরোপে দাম বাড়ানোর কারণ হয়েছে। সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের মানদণ্ডমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়, এশিয়ার মানদণ্ড এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশনের গ্যাস সমন্বয় গ্রুপ বুধবার বৈঠক করবে, যেখানে সদস্য দেশগুলো গ্যাস মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংকটে সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে।
আরটিভি/এসকে




