ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রভাবে ইউরোপীয় গ্যাসবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতি হাজার ঘনমিটার গ্যাসের দাম এক লাফে ৭৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড এবং মাত্র এক দিনের ব্যবধানে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। বৈশ্বিক খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও হামলার হুঁশিয়ারি আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দিনের শেষ ভাগে দাম কিছুটা কমে ৭০০ ডলারে নেমে আসে, তবুও বাজারের এই অস্থিরতা কাটেনি।
ইউরোপের এই গ্যাস সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’র সাম্প্রতিক ঘোষণা। ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। বছরে ৭৭ মিলিয়ন টন গ্যাস উৎপাদনকারী এই দেশটি সরবরাহ বন্ধ রাখলে ইউরোপের শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হবে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের উৎপাদন স্থগিত হওয়ার ফলে সেই বিকল্প পথটিও এখন রুদ্ধপ্রায়। এর ফলে কেবল গ্যাসের দামই বাড়বে না, বরং সার উৎপাদন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইসিই এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, বাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্তিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।।
আরটিভি/এআর




