বাড়ল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও গ্রিন কার্ডের প্রসেসিং ফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫৯ পিএম


বাড়ল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও গ্রিন কার্ডের প্রসেসিং ফি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততম সময়ে ভিসা এবং গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) পহেলা মার্চ থেকে প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধির নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। মূলত মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং দীর্ঘদিনের কাজের জট কমানোর লক্ষ্যে এই ফি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

বিজ্ঞাপন

 গত ২ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে এইচ-১বি ভিসা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড—সবক্ষেত্রেই বাড়তি অর্থ গুনতে হবে আবেদনকারীদের।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তটি সরাসরি কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। অধিকাংশ কাজের ভিসা এবং এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের জন্য প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বাড়িয়ে ২,৯৬৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশায় এই অতিরিক্ত ফি প্রদান করে থাকেন। তবে মনে রাখা জরুরি, এই ফি কেবল দ্রুত পর্যালোচনার গ্যারান্টি দেয়, আবেদনের অনুমোদনের নয়।

বিজ্ঞাপন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবেদনে ফির পরিমাণে ভিন্নতা আনা হয়েছে। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে প্রধান পরিবর্তনের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার কর্মসংস্থান ভিসাগুলোর প্রিমিয়াম ফি ২,৮০৫ ডলার থেকে বেড়ে ২,৯৬৫ ডলার হয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড আবেদনের ফি-ও এখন ২,৯৬৫ ডলার। মৌসুমী ও ধর্মীয় কর্মী এইচ-২বি ও আর-১ শ্রেণির কর্মীদের জন্য ফি ১,৬৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৭৮০ ডলার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থী ওয়ার্ক পারমিট ওপিটি ও এসটিইএম-ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রিমিয়াম ফি এখন ১,৭৮০ ডলার। এছাড়া এফ, জে এবং এম ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের স্টেটাস পরিবর্তনের ফি বেড়ে হয়েছে ২,০৭৫ ডলার।

ইউএসসিআইএস তাদের ওয়েবসাইটে এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পহেলা মার্চ বা তার পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে পাঠানো আবেদনে যদি পুরোনো ফি সংযুক্ত করা হয়, তবে সেই আবেদন  সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, আমরা যদি পহেলা মার্চের পর ভুল ফি-সহ কোনো আবেদন পাই, তবে সেটি ফেরত দেওয়া হবে।  এর ফলে আবেদনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হতে পারে এবং যারা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছেন, তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় পড়তে হতে পারে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর অন্তর প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এই ফি আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

ইউএসসিআইএস দাবি করেছে, এই বাড়তি রাজস্ব প্রিমিয়াম পরিষেবাগুলো আরও উন্নত করতে এবং সাধারণ আবেদনগুলোর জট কমাতে ব্যয় করা হবে। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা দেখতে চান, ফির এই বিশাল উল্লম্ফনের ফলে আবেদনের সিদ্ধান্তের গতি সত্যিই বাড়ে কি না।

বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বাড়তি খরচ নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মী—উভয় পক্ষের জন্যই একটি বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বদলে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ী হতে চান, তাদের পকেট থেকে এখন মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। তবে জট কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে এটি দীর্ঘমেয়াদে আবেদনকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission