ইরানের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ আহ্বানে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মিত্র দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে এগিয়ে না আসে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস জানান, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা ইউরোপের স্বার্থে হলেও এটি ন্যাটোর কার্যক্রমের আওতায় পড়ে না।
জার্মানির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটিকে “ন্যাটোর যুদ্ধ” হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তারা মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো যায়।
চীনকে আহ্বান জানালেও, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং তারা সব পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও এ অঞ্চলে কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প দাবি করেন, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তার ভাষায়, কিছু দেশ খুবই উৎসাহী হলেও কিছু দেশ প্রত্যাশিত আগ্রহ দেখাচ্ছে না যা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
আরটিভি/এসকে




