ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ২০তম দিনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই তথ্য জানান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় গারগাশ বলেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা কেবল কোনো একক দেশের নয়, বরং সবার দায়িত্ব।”
যদিও তিনি জানিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় এখনো চূড়ান্ত সম্মতি হয়নি, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে।
আনোয়ার গারগাশ তার বক্তব্যে কেবল বর্তমান সংকট নয়, বরং যুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাত শেষে এমন একটি আঞ্চলিক কাঠামো প্রয়োজন হবে যা তেহরানকে তার পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কর্মসূচির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না।
এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও হরমুজ প্রণালী সচল রাখার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক সাড়াকে ‘১০-এর মধ্যে ৮’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। যদিও ফ্রান্স জানিয়েছে তারা এই জোটে তাদের নৌ-জাহাজ পাঠাবে না।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। ট্রাম্প বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন যাতে চীন, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের নিজস্ব তেলবাহী জাহাজের পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। তবে এরই মধ্যেই দেশগুলো ট্রাম্পের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অবশ্য আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আরটিভি/এআর





