ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহের শাহাদাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব নিহতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল তেহরান। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সিরিজ হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় সহকর্মী ইসমাইল খাতিব, আলি লারিজিানি এবং আজিজ নাসিরজাদেহসহ তাদের পরিবারের কিছু সদস্য ও সফরসঙ্গীদের এই কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।’
এর আগে ইরানের কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহর মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছিল।
তেহরানের রাজপথে ইতিমধ্যে নিহত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। যদিও ইসরায়েল এই সুনির্দিষ্ট হামলাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কৌশলগত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের গোয়েন্দা জাল ছিঁড়ে ফেলার লক্ষ্যেই এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া জবাব দিয়ে এলেও একসঙ্গে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তিন শীর্ষ নেতাকে হারানো বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে ইরানের জন্য।
আরটিভি/এআর





