ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ , ১২:৫০ পিএম


ইরানে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু করা যৌথ সামরিক অভিযান চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রও এখন বড় ধরনের সামরিক ও কারিগরি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত ১৬টি মূল্যবান আকাশযান হারিয়েছে। যার মধ্যে ১০টিই হলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন এবং বাকি ৬টি বিভিন্ন ধরনের সামরিক বিমান।

আরও পড়ুন

মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে কুয়েতে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, সেখানে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ভূপাতিত হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কুয়েতি সেনারাই ভুলবশত এই বিমানগুলোকে মাটিতে নামিয়ে আনে বা ধ্বংস করে দেয়। এর কয়েকদিন পর ইরাকের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হয় একটি ‘কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং’ বিমান, যাতে থাকা ছয় মার্কিন সেনার সবাই নিহত হয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সুনির্দিষ্ট হামলায় একসঙ্গে পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন বিমানবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমানও এবার ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত বুধবার ইরান একটি মার্কিন এফ-৩৫ বিমানে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়। যদিও বিমানের অভিজ্ঞ পাইলট অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বন্ধুপ্রতীম দেশে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন, তবে বিমানটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

মার্কিন সেনা কর্মকর্তারাও এখন স্বীকার করছেন, পুরো ইরানের আকাশসীমায় তারা এখনো একচ্ছত্র আধিপত্য বা কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেননি। বর্তমানে তেহরানের আশপাশের কেবল নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মার্কিন বিমানবাহিনী কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে, যেখান থেকে তারা মাঝেমধ্যে হামলা চালাতে পারছে। তবে ইরানের বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল ও গোপন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ওয়াশিংটনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে ১৬টি আকাশযান হারানো এবং রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন বাহিনীর লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে রিফুয়েলিং বিমান কমে যাওয়ায় দীর্ঘ পাল্লার যুদ্ধবিমানগুলোর অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে, তবে ইরানের অনড় অবস্থান ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission