মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন পারমাণবিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে আবারও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। এই সময়ের মধ্যে যদি ইরান তা না করে তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরানেও পাল্টা হুমকি দিয়ে জানায় তাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
রোববার (২২ মার্চ) ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই ঘোষণা দেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন, "হরমুজ প্রণালী বর্তমানে আমাদের পূর্ণ গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কেবল ক্ষতিকর শত্রু জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য এটি উন্মুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার দুঃসাহস দেখায়, তবে আমরা তিনটি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমত হরমুজ প্রণালী চিরতরে সিল করে দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) অবকাঠামোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান শেয়ারহোল্ডার রয়েছে এমন সমস্ত কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।
এদিকে মেহের নিউজের তথ্যমতে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শত্রু দেশের কোনো জাহাজকে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি মার্কিন নৌবাহিনী। এই উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের কাছে যুদ্ধজাহাজ চেয়ে বারবার অনুরোধ করলেও অধিকাংশ দেশ এই ‘বিপজ্জনক’ মিশনে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
যদিও গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান—এই ছয়টি দেশ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ যোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত একাই এই সামরিক সংকট মোকাবিলা করছে।
আরটিভি/এআর



