চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা কেবল ইরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির দাবি, যুদ্ধের ময়দানে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েই যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনার পথ খুঁজছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা ‘যৌক্তিক’ নয়।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান কোনোভাবেই এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানিয়েছে, যারা অতীতে বারবার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, তাদের দেওয়া কোনো শর্তে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। তেহরান যুদ্ধের ময়দানে তার ‘কৌশলগত লক্ষ্যসমূহ’ অর্জন না করা পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় আসবে না।
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি পাল্টা ৫টি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানি এই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো হলো:
১. যুদ্ধ যেন আর কখনো শুরু না হয়, সেটির শক্তিশালী ও আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।
২. মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সকল সামরিক ঘাঁটি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
৩. যুদ্ধের কারণে ইরানের হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন একটি আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতে।
৫. ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মারফত ইরানকে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। এই তালিকায় ইরানের সামরিক শক্তির ওপর লাগাম টানা, প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা বন্ধ করা এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কঠিন শর্ত ছিল।
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
আরটিভি/এআর



