সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ের উপকূলবর্তী জলসীমায় কুয়েতের একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) এ হামলা হয় এবং এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজটি তেলে পরিপূর্ণ থাকায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পরিবেশগত ও নৌ-নিরাপত্তাজনিত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৩০ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তা না হলে দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় আরও কঠোর হামলার হুমকি দেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্বার্থ, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। এর ফলে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই উপকূলে তেলবাহী জাহাজে এ হামলা শুধু সামরিক উত্তেজনাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও নতুন সংকেত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : এএফপি
আরটিভি/এসকে



