এখনো অক্ষত ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, কার্যকর ড্রোন সক্ষমতাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৩১ পিএম


এখনো অক্ষত ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, কার্যকর ড্রোন সক্ষমতাও
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিদিন শত শত বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। কিন্তু এত কিছুর পরও তেহরানের কোমর ভাঙা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে, চরম আক্রমণের মুখেও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র (লঞ্চার) এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

তবে মার্কিন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ অক্ষত আছে। যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তেহরানের ড্রোন সক্ষমতা একটুও কমেনি। তাদের গোপন অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত ও মজুদ আছে, যা দিয়ে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, কয়েক দশক ধরে এমন সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ ও গুহার এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে ইরান। সেখানেই তাদের দূরপাল্লার প্রিসিশন লঞ্চারগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। ফলে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট দিয়েও সেগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য সিএনএনের এ প্রতিবেদনকে ‘পুরো ভুল’ বলে দাবি করেছেন। পার্নেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি শাসন ব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত হেনেছে। আমাদের লক্ষ্যগুলো সময়ের আগেই অর্জিত হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তাদের প্রক্সি বাহিনীকে নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন

যদিও, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। তেহরান এটিকে ‘এফ-৩৫’ বলে দাবি করলেও পেন্টাগন বিমান বিধ্বস্তের কথা স্বীকার করলেও মডেলটি সুনির্দিষ্ট করেনি। একই সঙ্গে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজতে মার্কিন একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ওই এলাকায় গেলে সেটিকেও ভূপাতিত করা হয়।

অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহের হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের ৭০ ভাগই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দম্ভোক্তি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু একে একটি বিরাট সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের আর্থিক ও সামরিক সংস্থান থেকে বঞ্চিত হবে।

বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “আরো কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে পারি এবং ইরানের তেল দখল করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি।”

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের হুমকির মুখে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাচ্ছে তেহরান। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও সমুদ্রসীমায় বিপুল মাইন স্থাপন করা শুরু করেছে আইআরজিসি। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই চরম রূপ নিয়েছে যে, ১২ বছর বয়সী কিশোর শিশুদেরও সামরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ‘জানফাদা’ বা ‘উৎসর্গ’ নামক এক বিশেষ জাতীয় অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উন্মাদনা ছড়ানো হচ্ছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission