কখন কার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়, তা আগে থেকে বলা সত্যিই কঠিন। মাঝেমধ্যে অবহেলায় ফেলে রাখা সামান্য একটি জিনিসও যে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা।
কয়েক দিন ধরে ব্যাগের ভেতর পড়ে থাকা এক টুকরো কাগজ তাকে রাতারাতি ১০ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দিয়েছে। অথচ জেতার বেশ কয়েক দিন পর পর্যন্ত তিনি জানতেনই না যে তার ব্যাগের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল সৌভাগ্য।
মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সম্প্রতি মিশিগানে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেরিল্যান্ডে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে ডেট্রয়েটের ট্রাম্বুল স্ট্রিটের 'ফরেস্ট লিকার' নামের একটি দোকানে শখের বশে থামেন তিনি। ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে ১০ ডলার দিয়ে কয়েকটি ‘লাকি নাম্বারস’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনেছিলেন তিনি।
লটারিগুলো কেনার পর তিনি সেগুলো ঘষে না দেখেই ব্যাগের এক কোণে রেখে দিয়েছিলেন। এরপর নিজের কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে গিয়ে টিকিটের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। বেশ কয়েক দিন পর হঠাৎ অন্য কাজে ব্যাগ গোছানোর সময় টিকিটগুলো পুনরায় তার চোখে পড়ে। কৌতূহলবশত একটি টিকিট স্ক্র্যাচ করতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় তার দুনিয়া। দেখেন, এক-দুই হাজার নয়, একেবারে ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতে নিয়েছেন তিনি।
বিস্ময়কর এই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিজয়ী ব্যক্তি বলেন, “আমার কাছে পুরো বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম কোনো ভুল হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে বন্ধুকে পাঠালে সেও প্রথমে ভেবেছিল আমি তার সাথে মজা করছি বা টিকিটটি হয়তো ভুয়া।”
লটারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শুরুতে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পারলেও লটারি অফিসের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন মেরিল্যান্ডের এই বাসিন্দা।
পুরস্কারের এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, অর্থের একটি বড় অংশ তিনি ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করতে চান। বিশ্বের বিভিন্ন সুন্দর জায়গা ঘুরে দেখার দীর্ঘদিনের শখ এবার পূরণ হতে যাচ্ছে তার। বাকি অর্থ তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সঞ্চয় করে রাখবেন।
আরটিভি/এআর




