যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার পদে নিয়োগের জন্য নতুন প্রজন্মের গেমারদের লক্ষ্য করে বিশেষ প্রচারণা শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে সংস্থাটি এ বছরের নিয়োগ কার্যক্রমকে জোরদার করেছে। আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১৭ এপ্রিল রাত ১২টা (ইস্টার্ন সময়) থেকে।
নতুন প্রচারণার ভিডিওতে ভিডিও গেম খেলার দক্ষতা এবং আকাশপথে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজের মধ্যে মিল তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, একসঙ্গে একাধিক বিষয় নজরে রাখা, চাপের মধ্যে স্থির থাকা এবং স্ক্রিনভিত্তিক জটিল পরিস্থিতি সামলানোর সক্ষমতাকে এই পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এফএএ জানিয়েছে, চাকরিতে যোগদানের তিন বছরের মধ্যে একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও কর্মস্থলভেদে এই আয় আরও বেশি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন পি ডাফি জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের দক্ষ তরুণদের কাছে পৌঁছাতে নিয়োগ প্রচারণার ধরন বদলানো হয়েছে। গেমিংয়ে অভ্যস্ত তরুণদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, মাল্টিটাস্কিং, স্থানিক বিশ্লেষণ এবং জটিল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মতো উচ্চচাপের পেশায় কাজে লাগে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এফএএতে কর্মরত কন্ট্রোলারের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ১৬৪ জন, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম।
অন্যদিকে একই সময়ে ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছে। ফলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
এফএএ ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত ৮ হাজার ৯০০ নতুন কন্ট্রোলার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে—
> যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে।
> বয়স ৩১ বছরের নিচে হতে হবে।
> সাবলীল ইংরেজি বলতে জানতে হবে।
> অ্যাপটিটিউড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
> মেডিক্যাল স্ক্রিনিং পাস করতে হবে।
> প্রশিক্ষণ একাডেমির কঠোর কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া নিয়োগের পরও দীর্ঘমেয়াদি অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হয়।
>>> এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লাখো যাত্রীর নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক কিছু বিমান দুর্ঘটনা ও বিলম্বের ঘটনার পর এই সংকট আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে



