মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অপসারণের দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ)-সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে পদ থেকে সরানোর বিষয়ে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি মূলত 'ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই' লেখা হয়েছিল। বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিকালীন এই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছলেন তিনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ব্রেনান 'এমএস নাউ'-কে বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল মন্তব্য এবং তিনি অসংখ্য জীবনের জন্য যে বিপদ তৈরি করেছেন, তাতে তাকে ওভাল অফিস (প্রেসিডেন্টের কার্যালয়) থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এই ব্যক্তিটি স্পষ্টতই ভারসাম্যহীন। আমি মনে করি ২৫তম সংশোধনীটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল। ট্রাম্পের হাতে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রাগারসহ যে বিশাল সামরিক শক্তি রয়েছে, তাতে তাকে আর 'কমান্ডার-ইন-চিফ' হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়াটা হবে একটি বড় ঝুঁকি।
ইরানের 'পুরো সভ্যতা মারা যাবে' ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারিতে ব্রেনান বলেন, এই হুমকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক এবং কটু শব্দযুক্ত বক্তব্য দিয়ে চলেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ডেমোক্র্যাট নেতা ২৫তম সংশোধনী ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে মার্কিন সংবিধানে যুক্ত হওয়া এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্যাবিনেটের অধিকাংশ সদস্য যদি এই মর্মে একমত হন যে প্রেসিডেন্ট 'তার পদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম', তবে তারা তাকে সরিয়ে দিতে পারেন।
কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য এই সংশোধনী প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তবে বাস্তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়, কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো ক্যাবিনেট ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করে চলেছে।
আরটিভি/এসএস




