সিএনএনের অনুসন্ধান

ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ০১:১৩ পিএম


ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি। ছবি: নিউইউর্ক টাইমস

ইরান ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। এর ফলে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থান বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। 

সিএনএন-এর এই তদন্তে স্যাটেলাইট ছবি এবং বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন কিছু সামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র একে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি 'নাজুক' পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

আরও পড়ুন

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে আঘাত করেছে।

এক মার্কিন কংগ্রেসনাল এইডের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের একটি বড় অংশই এখন অচল, যা ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে৷ রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি এবং সীমিত সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও ইরান সেগুলোকে সবচেয়ে লাভজনক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করেছে। এই সম্পদগুলো প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হলেও সিএনএন-এর দাবি অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি৷ এই বিশাল সামরিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে৷ 

একজন সৌদি কর্মকর্তার মতে, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা অভেদ্য নয়৷ ইরান দাবি করেছে যে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হওয়ায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে৷

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো সমঝোতা ছাড়াই পারমাণবিক সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে৷ এই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ এর জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়৷

টানা ৩৮ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৭ এপ্রিল ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুইপক্ষ৷ গত ২৩ এপ্রিল সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ থেকেই নতুন করে কোনো হামলা হয়নি, তবে কোনো স্থায়ী সমঝোতাতেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি৷ 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission