তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্ট কাজগম (টিভিকে)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিদলীয় শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে নবাগত টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন আর. শবরীনাথন। তিনি বিজয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের ছেলে হয়েও বিরুগাম্বাক্কাম আসনে ডিএমকের বর্তমান বিধায়ক এএমভি প্রভাকর রাজাকে পরাজিত করেছেন।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শবরীনাথন প্রায় ২৭ হাজার ৮৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সবার নজর কেড়েছেন।
শবরীনাথন রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও তার পারিবারিক পরিচয় এবং জয়ের ব্যবধান রাজ্যজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। জয়ের পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই ফলাফল ক্ষমতাসীন ডিএমকের প্রতি সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে তার এই সাফল্য তামিল রাজনীতির প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
শবরীনাথন মনে করেন, মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছে এবং টিভিকে সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলের প্রধান থালাপতি বিজয় নিজেও তার প্রথম নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন। পেরাম্বুর আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বিজয়ের এই ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং মাঠ পর্যায়ের প্রচারণা দলটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও কিছু আসনের প্রয়োজন ছিল তবে প্রথম নির্বাচনেই ১০৮টি আসন পাওয়া যেকোনো নতুন দলের জন্য বিরল ঘটনা। বিজয়ের এই রাজনৈতিক অভিষেক ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে ৫৯টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস ৫টি এবং পিএমকে ৪টি আসনে জয় পেয়েছে।
আরটিভি/এআর



