হঠাৎ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ০৭:০১ পিএম


হঠাৎ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল আমিরাত
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে আবুধাবি উপকূলের অদূরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার পাশেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আমিরাতের আকাশসীমায় এই সাজসাজ রব নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

শুক্রবার (৮ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়,  আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাদের জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও মূল ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন বাজেনি, তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় হওয়া এবং বিস্ফোরণের শব্দ বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। 

আরও পড়ুন

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে কেশম দ্বীপসহ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলাও চালিয়েছে। এতে কিছু আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতা ছিল বলেও দাবি করা হয়, যদিও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমেরিকার আগ্রাসী, সন্ত্রাসী ও দস্যু বাহিনী যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। 

ইরান আরও দাবি করে, তাদের পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলো গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, অপরাধী ও আগ্রাসী আমেরিকা এবং তাদের মিত্ররা জেনে রাখুক, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অতীতের মতোই যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেবে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে।

এ ঘটনাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। টানা ৩৮ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর গত ৭ এপ্রিল থেকে দেশ দুটির মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও এখনও কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তারা। ফলে যেকোনো উস্কানিমূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যথাক্রমে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রাণ হারান।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শক্ত জবাব দেয় ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় দেশটি। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে করুণভাবে ভেঙে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। এ অবস্থায় আবার ইরানের পক্ষে যোগ দেয় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনী; যা ইরানের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় যুদ্ধে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission