ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ১২:০৯ পিএম


ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবিকে কেন্দ্র করে চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। নিজ দল লেবার পার্টির কয়েকজন সদস্যই এবার তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। 

সোমবার (১১ মে) ক্যাবিনেটের শীর্ষ মন্ত্রীরা তাকে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের জন্য চাপ দিয়েছেন। একইসঙ্গে লেবার পার্টির ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অস্থিরতা কাটাতে একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। এ ছাড়া জন হিলি এবং ডেভিড ল্যামিও পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য একটি দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পথ খোঁজার বিষয়ে স্টারমারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে রিচার্ড হার্মার ও স্টিভ রিডের মতো কয়েকজন মন্ত্রী এখনও স্টারমারকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

নিজ দলের এমপিদের প্রায় ২৫ শতাংশের (৭০ জনের বেশি) ধারণা, আগামী নির্বাচনে কিয়ার স্টারমার দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিফ হুইপ জোনাথন রেনল্ডস সারা দিন ডাউনিং স্ট্রিটে কাটিয়েছেন। এরই মধ্যে চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস)—টম রুটল্যান্ড, মেলানি ওয়ার্ড, নওশাবা খান এবং জো মরিস পদত্যাগ করেছেন। তারা স্টারমারকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সোমবার এক ভাষণে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশ লেবার পার্টিকে কখনোই ক্ষমা করবে না যদি তারা টোরিদের (কনজারভেটিভ পার্টি) মতো নেতৃত্ব নির্বাচনের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে। কাজের মাধ্যমেই তিনি তার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমারের স্থলে ওয়েস স্ট্রিটিং এবং অ্যান্ডি বার্নামের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। বিশেষ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে। এমনকি কর সংক্রান্ত বিতর্কে থাকা ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও বার্নামের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এড মিলিব্যান্ডের মতো কোনো অভিজ্ঞ নেতাও সামনে আসতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।

দলে যখন একটি অংশ নেতার পরিবর্তন চাচ্ছে, তখন অন্য একটি অংশের অবস্থান হলো- এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করা আত্মঘাতী হতে পারে। এমপি নাতাশা আয়রন্সসহ অনেকেরই আশঙ্কা, লেবার পার্টির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজকে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা করে দেবে।

তবে মঙ্গলবার (১২ মে) ক্যাবিনেট বৈঠক কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি নতুন কোনো কৌশল নেন, নাকি বিদায়ের পথ বেছে নেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ব্রিটেন।
 
আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission