আবারও যুদ্ধে ফেরার হুমকি ইরানের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ০৮:৫০ এএম


আবারও যুদ্ধে ফেরার হুমকি ইরানের 
বাঁয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং এর অর্থনৈতিক প্রভাব সরাসরি সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে।

শনিবার (১৬ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, আমেরিকানদের স্পষ্ট বলা হচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে পছন্দের এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ সাধারণ নাগরিকদেরই বহন করতে হবে। এ সময় তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাড়তে থাকা সুদের হারের একটি চিত্রও জুড়ে দেন।

আরও পড়ুন

আরাঘচি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা বাদ দিলেও আসল চাপ শুরু হবে তখন, যখন মার্কিন ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির ঋণ খেলাপির হার ইতোমধ্যেই গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যতদিন যুদ্ধের হুমকি থাকবে, ততদিন সেখানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

একই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে এক্সে লিখেছেন, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মার্কিন প্রশাসন এখন ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে ঋণ নিচ্ছে, যাতে একজন টেলিভিশন উপস্থাপক হরমুজ প্রণালিতে ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ সেজে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এই পাগলামির ফল হতে পারে নতুন একটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট।

মূলত সম্প্রতি মার্কিন সরকার ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড রেকর্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রি করার পর ইরানি নেতাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এলো। প্রায় দুই দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা এই প্রথম। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার প্রধান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ইরান চাইছে এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকুক, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে দেখছে।ুল

এদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরান একটি নতুন পেশাদার ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় কেবল ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পারাপারের সুবিধা পাবে এবং ওয়াশিংটনের নীতি সমর্থনকারী দেশগুলোর জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই হয়ে থাকে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission