তিন সন্তানের সামনে ফরাসি নারীকে গণধর্ষণ: দুই পাকিস্তানির মৃত্যুদণ্ড বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ১২:৪৯ পিএম


তিন সন্তানের সামনে ফরাসি নারীকে গণধর্ষণ: দুই পাকিস্তানির মৃত্যুদণ্ড বহাল
দণ্ডপ্রাপ্ত শফকত আলী ও আবিদ মালহি এবং ভুক্তভোগী ফরাসি নারী পর্যটকের ঘটনার দিনে ব্যবহৃত গাড়ি ও স্পট। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছর আগে এক ভয়াবহ ঘটনায় ফরাসি এক নারী পর্যটককে তার তিন সন্তানের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুই পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত। এমনটাই জানায় আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা দ্য ডেইলি মেইল। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবিদ মালহি এবং শফকত আলী। বুধবার (৩ জুন) আদালত তাদের করা আপিল খারিজ করে দেয়। এর আগে ২০২১ সালে একটি বিশেষ আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। পাকিস্তানের লাহোর–সিয়ালকোট মহাসড়কে ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানসহ গাড়িতে ছিলেন। গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা রাস্তার পাশে আটকে পড়েন।

পরে দুর্বৃত্তরা গাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অস্ত্রের মুখে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার সন্তানদের সামনে ধর্ষণ করে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর তারা তার নগদ টাকা, গহনা ও ব্যাংক কার্ড লুট করে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ঘটনার পর কিছু আক্রমণকারীর বর্ণনা দিতে সক্ষম হন। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা তাদের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। শুনানির সময় ভুক্তভোগী আদালতে তাদের শনাক্ত করেন এবং একজন অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে দ্রুত বিচার শেষে ২০২১ সালে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আসামিরা আপিল করলেও আদালত তা খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

ঘটনাটি পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে। দেশটিতে ধর্ষণ মামলার বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।

তৎকালীন লাহোর পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মন্তব্য—নারীটি রাতে কেন একা ছিল—নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও জনরোষ তৈরি হয়, যা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ হিসেবে দেখা হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানে ধর্ষণ মামলার দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে বিচারিক দুর্বলতা ও তদন্তের ঘাটতির কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান না।

পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম দেশ যেখানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিভিন্ন কারাগার থেকে ফাঁসির মাধ্যমে এই দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানা যায়।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি মেইল 


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission