ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ইরান আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। তবে ইরান একের পর এক এসব দাবি অস্বীকার করছে। ফলে চুক্তির আসল শর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রকাশের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। তবে এসব বিষয়ের বেশির ভাগই প্রকাশিত নথিতে নেই বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন নিয়ে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সমঝোতা না হলে আর কোনো আলোচনা হতো না।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে বিশেষ পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ীই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ চলবে।
এদিকে ইরানের জব্দ করা অর্থ ব্যবহার নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অর্থ ছাড় হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আলী বাহরাইনি বলেছেন, ইরানের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে শুধু ইরান।
হরমুজ প্রণালির বিষয়েও রয়েছে মতবিরোধ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি স্থায়ীভাবে শুল্কমুক্ত থাকবে। কিন্তু ইরান বলছে, নির্দিষ্ট সময়ের পর কিছু সেবার জন্য ফি নেওয়ার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির প্রকৃত শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় পার্থক্য থাকায় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের কিছু দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে পরে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/জেএমএ



