ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে এখনো নিখোঁজ ৫১ হাজার মানুষ। উদ্ধারকারী দলের সংকটের কারণে অনেক এলাকায় স্বজনদেরই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজতে দেখা গেছে। সাধারণত কেউ যদি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তখন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা থাকে। এরপর আটকে পড়ারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে দেশটিতে ৯২০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার রাতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সেখানে সরকারি উদ্ধারকর্মীর উপস্থিতি খুবই সীমিত। ফলে জীবিত স্বজনদের উদ্ধারের আশায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা থাকলে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়তে পারে।
এদিকে শুক্রবার রাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লা গুইরা এত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সেখানে প্রবেশ করতে হলে সরকারি অনুমতি লাগবে। তবে কাদের অনুমতি দেওয়া হবে সেটি স্পষ্ট নয়।
উদ্ধার অভিযান চললেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। প্রতিটি ঘণ্টা তাদের জন্য হয়ে উঠছে আরও অনিশ্চয়তার।
এদিকে বড় দুটি ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা অব্যাহতভাবে আফটার শক বা ছোট ছোট ভূমিকম্পে কাঁপছে। যা উদ্ধার অভিযান ব্যহত করছে।
আরটিভি/টিআর




