যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এর আগে দাফন স্থগিত থাকলেও, যুদ্ধবিরতির পর শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এই শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, এই শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক জানাজা হতে যাচ্ছে, যা ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার (যেখানে প্রায় ১ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন) রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খামেনির এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে তেহরানে এসে পৌঁছেছেন-
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ করছেন। তিনি শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি শুক্রবার বিকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে এসে পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন হে উই তেহরানের এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আফগানিস্তান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফর করছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন (যিনি ভারতের পাবলিক অফিসে থাকা সবচেয়ে সিনিয়র শিয়া ব্যক্তিত্ব) তেহরান গেছেন। এছাড়া ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা সালমান খুরশিদ ও মেহবুবা মুফতি এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
এছাড়া তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এই জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না। ইসরায়েল সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শোকানুষ্ঠান চলাকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী সরকারকে (ইসরায়েল) যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’’
পরবর্তী সূচি
শনিবার (৪ জুলাই) ও আগামীকাল রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের দেখার জন্য খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন রাখা হবে। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রাটি কোমের দিকে যাবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকমিছিল হবে।
সবশেষে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারে খামেনিকে সমাহিত করা হবে।
সূত্র: আজ-জাজিরা।
আরটিভি/এসএস




