ভারতের তেলেঙ্গানার পাপান্নাপেট গ্রামে ভিন্ন জাতে বিয়ে করার অপরাধে এক নববধূকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পাপান্নাপেট মণ্ডলের এল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রণয় গত ৬ জুলাই কাউডিপল্লী মণ্ডলের সালাবাতপুর গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাদের জাত আলাদা হওয়ায় তরুণীর পরিবার শুরু থেকেই এই বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে বিয়ের পরপরই এই নবদম্পতি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। তখন পুলিশ উভয় পরিবারকে ডেকে কাউন্সেলিং করে। ওই সময় নববধূ পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং স্বামীর সাথেই থাকতে চান।
প্রণয়ের মা শ্যামলা জানান, ভিন্ন জাতে বিয়ে করার কারণে কনের আত্মীয়রা তাদের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিল। বিয়ের দুই দিন পর, বুধবার (৮ জুলাই) কনের পরিবারের বেশ কিছু লোক চারটি গাড়ি নিয়ে এল্লাপুর গ্রামে প্রণয়দের বাড়িতে চড়াও হয়। ঘটনার সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সেই সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢোকে। প্রণয়ের মা বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং উপস্থিত সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। এরপর নববধূকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চম্পট দেয় হামলাকারীরা। বাড়ির বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় এই অপহরণের পুরো দৃশ্যটি ধরা পড়েছে।
ঘটনার পরপরই প্রণয়ের পরিবার পাপান্নাপেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও তরুণীকে উদ্ধার করতে পারেনি বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
পাপান্নাপেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নববধূকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। কনেকে উদ্ধারের পর তার জবানবন্দি নেওয়া হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তরুণীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এআর



