নিজ দেশের বিমানবন্দরে ইয়েমেন সরকারের হামলা, নেপথ্যে কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৫২ পিএম


হুথি নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে ইয়েমেন সরকারের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। ইরানের একটি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে রানওয়ে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ারা সানা বিমানবন্দরে ইয়েমেনের নিজস্ব একটি বিমান অবতরণে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তারা ইরানের একটি বিমানকে দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিতে চাপ প্রয়োগ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হুথি নিয়ন্ত্রিত এই বিমানবন্দরে ইরানের ওই বিমানের অবতরণ রুখতেই রানওয়েকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সমর্থনপুষ্ট দেশটির বৈধ সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন থেকে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রানওয়েতে হামলার ঘটনার পর ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিক, শ্রমিক, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন

রানওয়েতে এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরবকে দায়ী করে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক সতর্কবার্তায় বলেন, এই হামলার বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। তবে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গোষ্ঠীটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

এদিকে গত তিন দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩০০টির বেশি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, গত তিন দিনের মধ্যে শনিবার(১১ জুলাই) সবচেয়ে বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে। সেদিন ইরানের সামরিক বাহিনীর ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, গোলাবারুদের ডিপো, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় এলাকার নজরদারি-সংক্রান্ত রাডার ও স্থাপনা রয়েছে। 

সেন্টকম বলেছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যে হামলা পরিচালনা করেছে, তার জবাবে তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission