যৌন নির্যাতন মামলায় বিপুল জরিমানা দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০২:৪৯ পিএম


যৌন নির্যাতন মামলায় জরিমানা দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়েছেন লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল। সুদসহ মোট ৫৬ লাখ ২৫ হাজার ৫ ডলার ৪৮ সেন্ট তার আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে জুরির দেওয়া রায়ের পর এই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ হলো।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের নথিতে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচারক লুইস ক্যাপলানের নির্দেশে এ অর্থ ছাড় করা হয়।

এর আগে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখারও চেষ্টা করেন তিনি। তবে সেই আবেদনেও সাড়া মেলেনি।

আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্যারলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই অর্থ তিনি অবসরজীবনের জন্য সংরক্ষণ করবেন। তবে ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থটি সুদবাহী একটি ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।

তবে আইনি লড়াই থেকে সরে আসেননি ট্রাম্প। গত শুক্রবার তার আইনজীবীরা ফেডারেল আপিল আদালতের কাছে অর্থ হস্তান্তর স্থগিতের আবেদন করেন। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট পুনর্বিবেচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। এমনকি অর্থ হস্তান্তর হয়ে থাকলে সেটি আবার আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন হিসাবে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। যদিও জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় স্থগিতের আবেদন আগেই খারিজ করে দিয়েছে আপিল আদালত। সর্বশেষ আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল পুরো অর্থই পাবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা জানান, চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করলেও ক্ষতিপূরণের এই অর্থ থেকে তারা কোনো আইনগত ফি নেবেন না।

এক বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান বলেন, তিন বছর আগে নয় সদস্যের সর্বসম্মত জুরি ট্রাম্পকে ই. জিন ক্যারলের ওপর যৌন নির্যাতন এবং পরে তাকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতেই আজ তিনি ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন

ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলা প্রথম নারী নন। তবে তিনিই প্রথম এই অভিযোগ আদালতে পূর্ণাঙ্গ বিচারে নিয়ে যান। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। প্রথম বিচারে ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত না থাকলেও প্রকাশ্যে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ক্যারলকে নিজের পছন্দের নারী নন বলে দাবি করেন এবং বই বিক্রির জন্য তিনি এসব অভিযোগ তুলেছেন বলেও মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যকে মানহানিকর বলে রায় দেন জুরি। একই সঙ্গে যৌন নির্যাতনের দায়ও প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে সিএনএনের এক টাউন হল অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও ক্যারলকে কটাক্ষ করে তাকে 'পাগল' আখ্যা দেন এবং অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ বানানো গল্প' বলে দাবি করেন। এরপর ২০১৯ সালের মানহানি মামলায় নতুন এসব মন্তব্যও যুক্ত করেন ক্যারল।

দ্বিতীয় বিচারে ট্রাম্প আদালতে হাজির হন এবং অল্প সময়ের জন্য সাক্ষ্যও দেন। ওই মামলায় জুরি রায় দেয়, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যও মানহানিকর ছিল। এজন্য ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তি (প্রেসিডেনশিয়াল ইমিউনিটি) সংক্রান্ত যুক্তি বিবেচনার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে তার আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission