বন্দিশালায় ধর্ষণের শিকার জার্মান অধিকারকর্মী জানালেন ভয়াবহ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,  আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৫ পিএম


বন্দিশালায় ধর্ষণের শিকার জার্মান অধিকারকর্মী জানালেন ভয়াবহ তথ্য

ইসরায়েলের হেফাজতে থাকার সময়ে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের (ফ্লোটিলা) কর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি জার্মান অধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে।

তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ইসরায়েলে করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো বেআইনিভাবে শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন। চিৎকার বন্ধ করতে তারা লিডকের মুখ চেপে ধরেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লিডকে বলেন, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছিলেন। তার ধারণা, পুরুষ রক্ষীরা তার ওপর চলা এ নির্যাতন দেখছিলেন এবং সম্ভবত ভিডিও ধারণ করছিলেন। কারাগারের বারান্দা থেকে আংশিক টানা একটি পর্দা দিয়ে জায়গাটি আলাদা করা ছিল। পর্দাটি খোলাই রেখেছিলেন ইসরায়েলের কারারক্ষীরা।

২৫ বছর বয়সী লিডকে গত শরতে ইউরোপ থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরে (ফ্লোটিলা) যোগ দেন। ইসরায়েলের বাহিনী ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের নৌকাটি আটক করে। এরপর তাকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পাঁচদিন আটক রাখা হয়।

লিডকে বলেন, ইসরায়েলের কারাগারে ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর ধর্ষণসহ যে নির্যাতন ও সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল তাদের ভয় দেখানো। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে তারা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায় এবং আমাদের চুপ করাতে চায়। তারা আমাদের এমন এক ট্রমার মধ্যে ফেলতে চায়, যাতে আমরা আর কখনো ফিলিস্তিন নিয়ে কথা না বলি।’

তবে দমে না গিয়ে লিডকে কয়েক দিনের মধ্যেই তার বন্ধু ও চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। গত ডিসেম্বরে তিনি প্রথম ফ্লোটিলা কর্মী হিসেবে ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেন। আরও এক ডজনের বেশি কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যাদের বেশির ভাগই নাম প্রকাশ করেননি।

ইসরায়েলে লিডটকের আইনজীবীরা তার অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নকে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইনি লড়াই শুরু করার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লিডকে বলেন, ‘আমার লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা চুপ থাকলে তারা অন্য কারও সঙ্গেও একই কাজ করবে।’

অভিযোগপত্রটি ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষী তদন্ত বিভাগ (ইয়াহাস) এবং গিভন কারাগারের কমান্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে। লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলে বন্দি নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ রয়েছে, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করা।

ইসরায়েলে কর্মরত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’-এর আইনজীবী হাদ্দাদ বলেন, ‘অ্যানা ন্যায়বিচার চান। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে তিনি সব পথ ব্যবহার করতে চান। আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে এবং তদন্তের দাবিতে ইসরায়েলের ব্যবস্থা কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ক্রমাগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ চালানো হচ্ছে। এখন আমরা এর মাত্রা আরও বাড়তে দেখছি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও একই আচরণ করছে ইসরায়েল।’

লিডকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, মুখ খুললেই কারাগারে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী হিসেবে আমি এ বিষয়ে কথা বলা দায়িত্ব মনে করি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, ফিলিস্তিনি বন্দিরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, আমার ওপর হওয়া নির্যাতন তার চেয়ে অনেক কম।’

আরও পড়ুন

গেল বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইতালি থেকে প্রায় ১০০ কর্মীর সঙ্গে একটি বড় ফেরিতে করে রওনা হওয়ার আগে লিডকে আগের ফ্লোটিলা সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। তিনি ইসরায়েলের হেফাজতে যৌন নিপীড়নসহ সম্ভাব্য সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission