মানচিত্র বদলাবে না নেপাল, সাফ জানালো ভারতকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভ অনলাইন

শনিবার, ১৩ জুন ২০২০ , ০১:৪৭ পিএম


nepal says its new map permanent but ready for dialogue
বিবিসি থেকে নেয়া

কোনও অবস্থাতেই মানচিত্রে বদলানো হবে না। একবার ফের সাফ জানিয়ে দিলো নেপাল। লিপুলেখ গিরিপথ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানিকে নিজেদের দেশের অংশ হিসেবে দেখিয়ে সম্প্রতি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে দেশটি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কাঠমান্ডু। খবর আনন্দবাজারের।

গত মে মাসে ওই বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গয়ালি সংবাদমাধ্যমে বলেন, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে গত ২ নভেম্বর নিজেদের মানচিত্র পরিবর্তন করে ভারত। এরপরই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিই। এটা স্থায়ী সিদ্ধান্ত কারণ ওই এলাকাগুলো নেপালের মধ্যেই পড়ে। এ নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। তবে কোন এলাকা নেপালের মধ্যে পড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।

সম্প্রতি লিপুলেখ গিরিপথ থেকে কৈলাস-মানস সরোবরে যাওয়ার পথ পর্যন্ত একটি রাস্তার উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাতে প্রতিবাদ জানায় কেপি শর্মা ওলির সরকার। তারপরই ওই বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করে তারা। তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় ভারত। এমনকি এর পিছনে চীনের উস্কানি থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় ভারত। তাতে দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ আরও বাড়ে। এরপর কিছুটা সুর নরম করে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয় নেপাল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি।

তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গয়ালি। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনা চালাতে ভারতকে চিঠি দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার জবাব পাইনি। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালাতে দুই দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওলি কি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে দুইজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আমরা তো আগেই বলেছি, নেপাল আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

করোনা সঙ্কটের মধ্যেই গত এক মাস ধরে লাদাখ সীমান্তে চীনা বাহিনী ও ভারতীয় সেনার মধ্যে সংঘাতের আবহ দেখা দিয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন করতে দুই দেশের সেনাবাহিনী পর্যায়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। তাহলে কাঠমান্ডুর সঙ্গে আলোচনায় বসতে দিল্লির সমস্যা কোথায়, প্রশ্ন তোলেন প্রদীপ গয়ালি। তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি ভারত ও চীনা বাহিনীর কমান্ডাররা আলোচনায় বসেন। ভারত ও চীনের মতে আলোচনা হলে, বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে নয় কেন?

লিপুলেখ গিরিপথ ও কৈলাস-মানস সরোবরের মধ্যে রাস্তা তৈরি নিয়ে তাদের আপত্তির পিছনে চীনা উস্কানি রয়েছে কি না জানতে চাইলে, সরাসরি তা খারিজ করে দেন গয়ালি।  তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপালই একমাত্র দেশ, যা কখনও বিদেশি ঔপনিবেশিকদের হাতে ওঠেনি। ভারত এবং চীন, দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কারও মুখের উপরই দরজা বন্ধ করে দিতে পারে না নেপাল। ভারত ও নেপালের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনও তুলনাই চলে না। কারণ ব্যবসা বাণিজ্য হোক বা সীমান্ত সংযোগ, নানাভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ভারত ও চীন।

এ নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে নেপালের প্রসঙ্গ আসলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এ নিয়ে আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। নেপালের ঐতিহ্যপূর্ণ সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীরভাবে সম্মান করি আমরা। দুই দেশের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। নেপালের মানবিক, উন্নয়নমূলক ও যোগাযোগ স্থাপন প্রকল্পে ভারতের সহায়তা আরও বেড়েছে।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission