বিশ্বের যেকোনো দেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য সৌদি আরবের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনায় স্থায়ী সম্পত্তির মালিকানা (ফ্রিহোল্ড রাইটস) উন্মুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সৌদি মন্ত্রিসভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ পোর্টালের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বহু প্রজন্ম ধরে পবিত্র দুই মসজিদে (মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী) আসা বিদেশি মুসলিমদের জন্য সেখানে থাকার একমাত্র উপায় ছিল আবাসন ভাড়া নেওয়া। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী, অ-সৌদি নাগরিকদের জন্য মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ ২৬ বছর পর সেই কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সৌদি সরকার।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মুসলিম নাগরিকেরা নির্ধারিত জোনে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী মালিকানা লাভ করতে পারবেন। তবে অমুসলিমদের জন্য মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
তবে জমি কেনার সুযোগ পুরো শহরজুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (আরইজিএ) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে। মক্কা অঞ্চলের জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, বুর্জ আজইয়াদ, কিং সালমান গেট, তিলাল ভিলেজ, জাখির মক্কা, দাহিয়াত সুমু, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২। মদিনা অঞ্চলের জোনগুলো হলো রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার, আল-গুররা, আল-মাহওয়া, দারাত আল-হিজরা এবং মদিনা জোন ১ ও ২।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় অফার রাখা হয়েছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি সম্পূর্ণ নগদ অর্থে (কোনো ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া) ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাশীল ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আগ্রহী ক্রেতাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের (saudiproperties.rega.gov.sa) মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা নিজস্ব ‘ইকামা’ নম্বর দিয়ে সরাসরি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদন করার আগে নিজ নিজ দেশে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
সৌদি আরবের বর্তমান আবাসন (রিয়েল এস্টেট) খাতের মূল্য প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৪১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩ কোটিরও বেশি ওমরাহ যাত্রীকে সৌদিতে আকর্ষণ করা এবং খনিজ তেলের বাইরে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও মিশরের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ক্রেতাদের জন্য এটি একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। এর ফলে প্রতি বছর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে ভ্রমণ করা কোটি কোটি মুসলিম এখন চাইলে স্থায়ীভাবে মক্কা-মদিনায় নিজেদের একটি আবাসন গড়ে তুলতে পারবেন।
আরটিভি/এআর




