পাকিস্তানের সঙ্গে বড় পরিসরে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে কুয়েত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৪৯ পিএম


পাকিস্তানের সঙ্গে বড় পরিসরে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে কুয়েত
প্রতীকী ছবি

একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে। জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। 

কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সোমবার ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা হামলা চালায় সৌদি আরবে। এরপরই ইরানকে কঠোর এক হুমকি দিয়ে বসে পাকিস্তান। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটি তাদের বার্তায় স্পষ্টভাবে বলে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে পাকিস্তান।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সংঘাতে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছে কুয়েত। ফলে এ মুহূর্তে পাকিস্তান যদি কুয়েতের সঙ্গে নতুন কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমনকি ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধেও জড়াতে হতে পারে দেশটিকে। 

আরও পড়ুন

যদিও কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ২০২৩ সাল থেকে বহাল আছে। তবে, কুয়েত এখন পাকিস্তানের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইছে, ঠিক সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো।

এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান এতটা এগোতে রাজি হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, বহু দশকের পুরোনো মিত্রতার ভিত্তিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এমন ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার মতো বিষয়ও আছে। তবে সূত্রটি বলেছে, এটি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। 

এরই মধ্যে পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।’

উল্লেখ্য, গত এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। পাকিস্তানের বড় একটি সামরিক বাহিনী আছে এবং নিজস্ব যুদ্ধবিমানও তৈরি করে দেশটি। আর পাকিস্তানও প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে জরুরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপায় হিসেবে দেখছে।

এরই মধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। এটি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে আলাদা একটি উদ্যোগ। এছাড়া বাহরাইনও একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহী। পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একটি চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে জর্ডানও। এর মধ্যেই পাকিস্তানের জন্য তেল ও জ্বালানির নিরাপত্তার বড় সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে কুয়েত।  

পাকিস্তানের একটি সূত্র বলেছে, পাকিস্তানে শুল্ক–সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে কুয়েত। এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এগোতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে এলে এ নিয়ে আলোচনা আরও গতি পাবে। এ ধরনের প্রস্তাব আরও বড় পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে পাকিস্তানকে। 

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission