ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য মিলল জামিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদ। ছবি: সংগৃহীত

চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ভারতে। কারাগারের ভেতরের দুর্ধর্ষ দুই খুনির এক প্রেমকাহিনী পরিণতি পেতে যাচ্ছে বিয়েতে। এই বিয়ের কনে শাস্তি ভোগ করছেন ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর এক যুবককে হত্যার দায়ে। অন্যদিকে প্রেমিকার স্বামী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার দায় বরের মাথার ওপর।

কারাগারে বসে ছয় মাস প্রেম করার পর এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদ। আর এই বিয়ের জন্য খুনি বর-কনেকে ১৫ দিনের জন্য জামিন দিয়েছে রাজস্থান হাইকোর্ট।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় একজন মডেল ছিলেন প্রিয়া শেঠ। ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর দুষ্যন্ত শর্মা নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই কারাগারে তার সঙ্গে পরিচয় হয় হনুমান প্রসাদের। সেখানেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রিয়া শেঠের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাটি ২০১৮ সালের। ২০১৮ সালের ২ মে তিনি তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা এবং আরেক সহযোগীর সহায়তায় দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুষ্যন্তকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা এবং সেই অর্থ দিয়ে কামরার ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল।

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিয়া ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে বন্ধুত্ব গড়ে দুষ্যন্তকে বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। এরপর তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুষ্যন্তের বাবা ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠান। তবে, প্রিয়া ও তার প্রেমিক কামরার আশঙ্কা ছিল দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে তিনি পুলিশে খবর দিতে পারেন।

এই ভয় থেকে প্রিয়া, কামরা ও তাদের বন্ধু লক্ষ্য ওয়ালিয়া দুষ্যন্তকে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন রাখতে তার মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং প্রমাণ নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়।

পরদিন ৩ মে রাতে আমের পাহাড় থেকে দুষ্যন্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও লক্ষ্য ওয়ালিয়াকে ওই ফ্ল্যাট থেকেই গ্রেপ্তার করে।

এদিকে বর হনুমান প্রসাদ কারাদণ্ড ভোগ করছেন তার প্রেমিকার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে। বয়সে ১০ বছর বড় তার প্রেমিকার নাম সন্তোষ, যিনি আলওয়ারের একজন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় ছিলেন।

২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে স্বামী ও সন্তানদের হত্যার জন্য হুনুমানকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন সন্তোষ। হনুমান প্রসাদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে যান এবং ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করেন।

এই সময় সন্তোষের তিন সন্তান এবং বাড়িতে থাকা এক ভাগ্নে ঘুম থেকে জেগে পুরো ঘটনা দেখে ফেলে। ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষের নির্দেশে তার তিন সন্তান ও ভাগ্নেকেও হত্যা করা হয়।

সেই রাতে এক ব্যক্তি ও চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
একইসঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করে নিয়ে গেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এক বিট কনস্টেবলকেও।
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন 
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।  
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে আরটিভি/এসকে
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
হোটেলে দেহব্যবসার সন্ধান, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার টেলিভিশন অভিনেত্রী
মানব পাচার ও দেহব্যবসার অভিযোগে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ৩৫ বছর বয়সী এক টেলিভিশন অভিনেত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেলে দেহব্যবসার সন্ধান, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার টেলিভিশন অভিনেত্রী
আরও পড়ুন
এক ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে তিন বোনের বিয়ে, ভিডিও ভাইরাল
অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করাই রুবেলের শখ
‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ বললে কি তালাক হয়ে যায়?
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ