কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য মিলল জামিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৩৬ পিএম


কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য মিলল জামিন
প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদ। ছবি: সংগৃহীত

চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ভারতে। কারাগারের ভেতরের দুর্ধর্ষ দুই খুনির এক প্রেমকাহিনী পরিণতি পেতে যাচ্ছে বিয়েতে। এই বিয়ের কনে শাস্তি ভোগ করছেন ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর এক যুবককে হত্যার দায়ে। অন্যদিকে প্রেমিকার স্বামী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার দায় বরের মাথার ওপর। 

বিজ্ঞাপন

কারাগারে বসে ছয় মাস প্রেম করার পর এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদ। আর এই বিয়ের জন্য খুনি বর-কনেকে ১৫ দিনের জন্য জামিন দিয়েছে রাজস্থান হাইকোর্ট।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। খবর ইন্ডিয়া টুডের

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় একজন মডেল ছিলেন প্রিয়া শেঠ। ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর দুষ্যন্ত শর্মা নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই কারাগারে তার সঙ্গে পরিচয় হয় হনুমান প্রসাদের। সেখানেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রিয়া শেঠের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাটি ২০১৮ সালের। ২০১৮ সালের ২ মে তিনি তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা এবং আরেক সহযোগীর সহায়তায় দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুষ্যন্তকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা এবং সেই অর্থ দিয়ে কামরার ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিয়া ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে বন্ধুত্ব গড়ে দুষ্যন্তকে বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। এরপর তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুষ্যন্তের বাবা ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠান। তবে, প্রিয়া ও তার প্রেমিক কামরার আশঙ্কা ছিল দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে তিনি পুলিশে খবর দিতে পারেন।

এই ভয় থেকে প্রিয়া, কামরা ও তাদের বন্ধু লক্ষ্য ওয়ালিয়া দুষ্যন্তকে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন রাখতে তার মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং প্রমাণ নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়।

পরদিন ৩ মে রাতে আমের পাহাড় থেকে দুষ্যন্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও লক্ষ্য ওয়ালিয়াকে ওই ফ্ল্যাট থেকেই গ্রেপ্তার করে।

এদিকে বর হনুমান প্রসাদ কারাদণ্ড ভোগ করছেন তার প্রেমিকার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে। বয়সে ১০ বছর বড় তার প্রেমিকার নাম সন্তোষ, যিনি আলওয়ারের একজন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় ছিলেন।

২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে স্বামী ও সন্তানদের হত্যার জন্য হুনুমানকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন সন্তোষ। হনুমান প্রসাদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে যান এবং ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করেন।

এই সময় সন্তোষের তিন সন্তান এবং বাড়িতে থাকা এক ভাগ্নে ঘুম থেকে জেগে পুরো ঘটনা দেখে ফেলে। ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষের নির্দেশে তার তিন সন্তান ও ভাগ্নেকেও হত্যা করা হয়।

সেই রাতে এক ব্যক্তি ও চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission