বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন প্রধান বিচারপতির

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:০৬ এএম


বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন প্রধান বিচারপতির
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।  ফাইল ছবি

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। 

বিচারকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেদিনই হবে তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন। 

সম্প্রতি দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রধান বিচারপতি। 

গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। শপথগ্রহণ করার পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।

ওইদিন সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেওয়া অভিভাষণে অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার সুযোগ  নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। 

আরও পড়ুন

বিচারকদের দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন-সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। সর্বোপরি আইনজীবীরা যেন ড্রেসকোড মেনে চলেন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, অধস্তন আদালতের অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টা। মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি রয়েছে বলে জানান নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission