ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত যে কোনো দিন রায়ের তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে তার স্ত্রী মামলার অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতের এজলাসে আনা হয়। ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে শুনানি শুরু হয়। শুনানির আগে দুই আসামিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
এসময় আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি, তাকেও ধরেন।
আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি কিছু করিনি।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়।
মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আরটিভি/টিআর




