রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

আরটিভি নিউজ  

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০২:৫৪ পিএম


রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন ও রায় আসায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

রোববার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত। তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করায় এই আলোচিত মামলাটি প্রমাণ করা কঠিন ছিল না। এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও মন্ত্রী এ সময় জানান।

এর আগে আজ দুপুরের দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনা করে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—দুজনকেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে প্রধান আসামিকে ৫ লাখ ও তাঁর স্ত্রীকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়, যা ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার পাবে।

আরও পড়ুন

রায় পাঠকালে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ সুরতহাল রিপোর্টে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠলে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ৪ কার্যদিবসের মধ্যে আজ এই ঐতিহাসিক রায় দেওয়া হলো।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission