নাসির-তামিমার বিয়ে মামলার রায় আজ, দোষ প্রমাণ হলে হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ০৮:৫০ এএম


নাসির-তামিমার বিয়ে মামলার রায় আজ, দোষ প্রমাণ হলে হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি-ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আজ ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ রায় দেওয়া হবে। অভিযোগ রয়েছে, তামিমা সুলতানা তাম্মি তার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। এ অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

তবে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন, যা গত ৮ এপ্রিল শেষ হয়। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।

রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে বাদীপক্ষ আশাবাদী। ইসরাত হাসান বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রে অভিযোগের বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে এবং আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে তারা আশা করছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে আইনসম্মত এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটির মূল প্রশ্ন হলো আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল ছিল কি না এবং তালাকের আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আদালত অভিযোগের সত্যতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথার্থতা বিবেচনা করে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। আইনজীবীদের মতে, এ রায় ভবিষ্যতে তালাক, পারিবারিক আইন এবং দ্বিতীয় বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission