মাগুরার আলোচিত চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামির আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। সরকারি ছাপাখানা থেকে ছাপানো সেই পেপারবুক সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।
ডেথ রেফারেন্স শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খুব শিগগিরই হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। বিশেষ বেঞ্চেই শিশু রামিসা, আছিয়ার মতো চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার শুনানি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুকটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি মামলাটির শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চ মাসে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামে সাত বছরের শিশু আছিয়া খাতুনকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের মে মাসে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি মিকাইল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সেই দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকে ‘ডেথ রেফারেন্স’ বলা হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করার সুযোগ পান।
এ মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
আরটিভি/এমএ




